"খোকন সোনা" সিনেমাটি ১৯৮২ সালের ২১শে অক্টোবর মুক্তি পেয়েছিলো।
💜💜সোহেল ও জুলি দুইজন দুইজনকে ভালোবাসতো।কিন্তূ জুলির বড়লোক বাবা তাদের এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি।
অবশেষে জুলি তার বাবার বাড়ি ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যায় এবং জুলি তার বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সোহেলকে বিয়ে করে।সোহেল একটি ফিল্ম প্রোডাকশন হাউজের সামান্য কর্মচারী ছিলো।ছোটখাটো এই চাকরি করে জুলিকে নিয়ে তার সুখের সংসার ছিলো।এরমধ্যে তাদের একটি ছেলে হলো।ছেলের নাম রাখলো "খোকন "।
একদিন তারা একটি নতুন বাড়িতে সাবলেট হিসেবে ভাড়া নিলো।ভাড়াটিয়া চাচার সাথে ও তাদের সুসম্পর্ক তৈরি হলো।
💜💜সোহেল যে ফিল্ম প্রোডাকশনে চাকরি করতো সেখানে নানারকম খারাপ লোকের আড্ডা ছিলো।সোহেলের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে নানারকম ষড়যন্ত্র সৃষ্টি করায় একসময় সোহেল বাধ্য হয়ে চাকরিটা ছেড়ে দেয়।
চাকরি ছাড়ার পর নানারকম আর্থিক সমস্যা সৃষ্টি হয়।
ঠিকমতো বাড়িভাড়া দিতে পারেনা,একমাত্র পুত্র খোকনের জন্য দুধ কেনার টাকা পর্যন্ত নেই সোহেলের।নানারকম হতাশার মধ্যে দিনকাটছিলো সোহেলের।বিভিন্ন জায়গায় চাকরির ইন্টারভিউ দিচ্ছিলো,কিন্তু চাকরি হচ্ছিল না।অভাব,দুঃখ কষ্ট কাকে বলে এতোদিনে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে সোহেল ও জুলি।
💜💜একদিন বাড়িওয়ালা চাচাকে সোহেল তার সমস্ত দুঃখের কথা খুলে বললো,যে চাকরি চলে গেছে তাই বাড়িভাড়া দিতে পারছেনা।বাড়িওয়ালাকে সোহেল ও জুলির বিয়ে কিভাবে হলো সব শেয়ার করলো।
বাড়িওয়ালা চাচা সোহেলের কাছ থেকে জুলির বাবার বাড়ির ঠিকানা নিলো।আর সোহেল কে কিছু টাকা দিলো বাচ্চার দুধ কিনতে।
💜💜বাড়িওয়ালা চাচা এবার জুলির বাবার বাড়িতে গেলেন।তাদের একমাত্র মেয়ের সংসারের অভাব,মেয়ের জামাইয়ের চাকরি চলে যাওয়া,সন্তানের দুধ কিনতে পারেনা এসব দুঃখের কথা বললেন জুলির বাবা কে।কিন্তু জুলির
অহংকারী বাবা কোনো পাত্তা দিলেন না বাড়িওয়ালা চাচাকে।
💜💜বাড়িওয়ালা চাচা চলে আসলেন।জুলিকে সবঘটনা বললেন।তারপর বললেন মা,আমি দেশের বাড়িতে যাচ্ছি ছেলেদের কাছে।সামনে তো ঈদ।
💜💜দেখতে দেখতে ঈদের কাছাকাছি সময় চলে এলো।জুলির ছেলে খোকনের জন্য একটা জামা কেনার সামর্থ্য হলোনা।জুলির স্বামী সোহেলের পুরানো একটা পাঞ্জাবি কেটে আটমাস বয়সী খোকনের জন্য ছোট একটা পাঞ্জাবি তৈরি করলেন জুলি।খোকন এই পাঞ্জাবি টি ঈদে পরবে।
💜💜এদিকে ঈদের সময় ঘনিয়ে এলো।বিল্ডিং এর সব ভাড়াটিয়া ও আসে পাশের মানুষ ঈদ করার জন্য গ্রামে চলে গিয়েছে।বিল্ডিং এ জুলি ও সোহেল একা।
টেপরেকর্ডার বিক্রি করে যে ১২০০টাকা পেয়েছিলো।সেই টাকা দিয়ে বাড়িভাড়া দিতে চেয়েছিলো কিন্তু বাড়িওয়ালা তাদের অভাবের কারনে সেই টাকা নেয় নি।
এখন সেই টাকা দিয়ে বাচ্চার জন্য দুধ কিনবে সোহেল।তারপর চাকরি খুজতে বের হবে।বাচ্চা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর,বাচ্চাকে ঘরে একা রেখে সোহেল ও জুলি রিকশা করে বাহিরে গিয়েছিল বাচ্চার দুধ কেনার জন্য।কিন্তু হঠাৎ তাদের রিকশাকে এক ট্রাক ধা*ক্কা দেয়,এতে
সোহেল ও জুলি দুজনে আ'হত হয়,তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।কিছুতেই তাদের জ্ঞান ফিরছিলো না।জ্ঞান ফিরলেই তারা খোকন খোকন বলে চিৎকার করে আবার অ*জ্ঞান হয়ে যেতো।এভাবে ২৪ ঘন্টা কেটে যায়।
💜💜এদিকে তাদের শিশু খোকন একা বাসায় ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করতে থাকে।খাটের সামনে একটা ফিডার ধরতে গিয়ে খাট থেকে পড়ে যায় খোকন।
সারারাত ঘরের মধ্যে ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করতে করতে খোকন মা*রা যায়।
একদিন পর জ্ঞান ফেরার পর সোহেল ও জুলি হাসপাতাল থেকে দৌড়ে তাদের বাসায় যায়।গিয়ে দেখে তাদের খোকন আর নেই।মেঝেতে পরে আছে খোকনের ছোট নি*থর দেহ।
💜💜এদিকে জুলির বাবা ও মা এইবার তাদের সম্পর্ক মেনে নিবে তাই জুলির বাচ্চার জন্য দুধ ও জামা কিনে জুলির বাড়িতে রওয়ানা দেয়। বাড়িতে এসে দেখে সোহেল ও জুলির কান্না।তাদের সন্তান আর নেই।
মায়ের হাত থেকে দুধের পট নিয়ে জুলি কান্না করে বলে,এই দুধের জন্য তো মা- আমার খোকন মা*রা গেছে।
💜💜"খোকন সোনা" চলচ্চিত্রটি পরিচালক কাজী হায়াত নির্মাণ করেছিলেন।ছোট বাচ্চাটি হলো কাজী মারুফের ছোটবেলা।সোহেল চরিত্রে রাজীব এবং জুলি চরিত্রে চিত্রনায়িকা জুলিয়া অভিনয় করেছিলো।
লেখা:Bangladeshi films & entertainment news.
#khokhonshonacinema
#Rajib
#Juliya
#kazimaruf
#actor
#Dhallywood

0 মন্তব্যসমূহ